রোজা কবে ২০২৬? বাংলাদেশে রমজানের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি ও ক্যালেন্ডার

Md Parvez Hossen

February 16, 2026

প্রজ্বলিত ঈমানের আলো নিয়ে আবারও আমাদের মাঝে ফিরে আসছে পবিত্র মাহে রমজান। আপনি কি রোজা কবে শুরু হবে এবং পুরো মাসের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি খুঁজছেন? আজ ১৬ ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ রমজান শুরু হতে আর মাত্র ১ বা ২ দিন বাকি।

আপনার সুবিধার্থে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ২০২৬ সালের রমজানের সম্ভাব্য পূর্ণাঙ্গ ক্যালেন্ডার নিচে দেওয়া হলো।

রমজান ২০২৬: সেহরি ও ইফতারের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি

নিচের ছকটি ঢাকা জেলার স্থানীয় সময়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে রোজা ১৮ বা ১৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে পারে। আমরা ১৮ ফেব্রুয়ারি শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ধরে ৩০ দিনের তালিকা দিচ্ছি।

প্রথম ১০ রোজা (রহমতের দিনসমূহ)

রোজাতারিখ (২০২৬)বারসেহরির শেষ সময়ইফতারের সময়
০১১৮ ফেব্রুয়ারিবুধবার০৫:০৯ মি.০৫:৫৮ মি.
০২১৯ ফেব্রুয়ারিবৃহস্পতিবার০৫:০৮ মি.০৫:৫৯ মি.
০৩২০ ফেব্রুয়ারিশুক্রবার০৫:০৭ মি.০৫:৫৯ মি.
০৪২১ ফেব্রুয়ারিশনিবার০৫:০৬ মি.০৬:০০ মি.
০৫২২ ফেব্রুয়ারিরবিবার০৫:০৫ মি.০৬:০০ মি.
০৬২৩ ফেব্রুয়ারিসোমবার০৫:০৫ মি.০৬:০১ মি.
০৭২৪ ফেব্রুয়ারিমঙ্গলবার০৫:০৪ মি.০৬:০১ মি.
০৮২৫ ফেব্রুয়ারিবুধবার০৫:০৩ মি.০৬:০২ মি.
০৯২৬ ফেব্রুয়ারিবৃহস্পতিবার০৫:০২ মি.০৬:০২ মি.
১০২৭ ফেব্রুয়ারিশুক্রবার০৫:০১ মি.০৬:০৩ মি.

দ্বিতীয় ১০ রোজা (মাগফিরাতের দিনসমূহ)

রোজাতারিখ (২০২৬)বারসেহরির শেষ সময়ইফতারের সময়
১১২৮ ফেব্রুয়ারিশনিবার০৫:০০ মি.০৬:০৩ মি.
১২০১ মার্চরবিবার০৪:৫৯ মি.০৬:০৪ মি.
১৩০২ মার্চসোমবার০৪:৫৮ মি.০৬:০৪ মি.
১৪০৩ মার্চমঙ্গলবার০৪:৫৭ মি.০৬:০৫ মি.
১৫০৪ মার্চবুধবার০৪:৫৬ মি.০৬:০৫ মি.
১৬০৫ মার্চবৃহস্পতিবার০৪:৫৫ মি.০৬:০৬ মি.
১৭০৬ মার্চশুক্রবার০৪:৫৪ মি.০৬:০৬ মি.
১৮০৭ মার্চশনিবার০৪:৫৩ মি.০৬:০৭ মি.
১৯০৮ মার্চরবিবার০৪:৫২ মি.০৬:০৭ মি.
২০০৯ মার্চসোমবার০৪:৫১ মি.০৬:০৭ মি.

শেষ ১০ রোজা (নাজাতের দিনসমূহ)

রোজাতারিখ (২০২৬)বারসেহরির শেষ সময়ইফতারের সময়
২১১০ মার্চমঙ্গলবার০৪:৫০ মি.০৬:০৮ মি.
২২১১ মার্চবুধবার০৪:৪৯ মি.০৬:০৮ মি.
২৩১২ মার্চবৃহস্পতিবার০৪:৪৮ মি.০৬:০৯ মি.
২৪১৩ মার্চশুক্রবার০৪:৪৭ মি.০৬:০৯ মি.
২৫১৪ মার্চশনিবার০৪:৪৬ মি.০৬:১০ মি.
২৬১৫ মার্চরবিবার০৪:৪৫ মি.০৬:১০ মি.
২৭১৬ মার্চসোমবার০৪:৪৪ মি.০৬:১০ মি.
২৮১৭ মার্চমঙ্গলবার০৪:৪৩ মি.০৬:১১ মি.
২৯১৮ মার্চবুধবার০৪:৪২ মি.০৬:১১ মি.
৩০১৯ মার্চবৃহস্পতিবার০৪:৪১ মি.০৬:১২ মি.

(বিঃদ্রঃ সেহরির শেষ সময়ের ৩ মিনিট পর ফজরের আজান শুরু হবে। চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা ১ দিন আগে বা পরে হতে পারে।)

ঢাকার সাথে অন্যান্য জেলার সময়ের পার্থক্য

বাংলাদেশের সব জেলায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত একই সময়ে হয় না। তাই ঢাকার সময়ের সাথে আপনার জেলার সময় মিলিয়ে নিতে নিচের নিয়মটি অনুসরণ করুন:

  • ঢাকার সময় থেকে যোগ করবেন (+): চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, রাঙামাটি ইত্যাদি অঞ্চলের জন্য ইফতারের সময় কয়েক মিনিট আগে এবং সেহরির সময় কয়েক মিনিট আগে শেষ হবে। (সূর্য আগে ওঠে ও ডোবে)।
    • উদাহরণ: সিলেটে ইফতার ঢাকার ৫-৬ মিনিট আগে হবে।
  • ঢাকার সময় থেকে বিয়োগ করবেন (-): রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, যশোর, রংপুর ইত্যাদি অঞ্চলের জন্য ইফতারের সময় কয়েক মিনিট পরে এবং সেহরির সময় কয়েক মিনিট পরে শেষ হবে। (সূর্য পরে ওঠে ও ডোবে)।
    • উদাহরণ: রাজশাহীতে ইফতার ঢাকার ৫-৬ মিনিট পরে হবে।

রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়া

রোজা রাখার জন্য মুখে নিয়ত করা জরুরি নয়, তবে অন্তরের সংকল্প থাকাই যথেষ্ট। তবুও অনেকে মুখে বলতে পছন্দ করেন।

🤲 রোজার নিয়ত (আরবি ও বাংলা উচ্চারণ)

নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম মিন শাহরি রামাদানাল মুবারাকি ফারদাল্লাকা, ইয়া আল্লাহু ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নাকা আনতাস সামিউল আলিম।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজান মাসে তোমার সন্তুষ্টির জন্য ফরজ রোজা রাখার নিয়ত করলাম। আমার তরফ থেকে তা কবুল করো।

🤲 ইফতারের দোয়া

আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযকিকা আফতারতু।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমার দেওয়া রিযিক দিয়ে ইফতার করলাম।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

পাঠকদের মনে রোজা ও সময়সূচি নিয়ে যেসব প্রশ্ন প্রায়ই জাগে:

১. ২০২৬ সালে শবে কদর কবে?

সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ (রবিবার দিবাগত রাত) পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবে কদর হতে পারে (যদি রোজা ১৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়)। তবে শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে শবে কদর তালাশ করা উত্তম।

২. সেহরির শেষ সময়ের কতক্ষণ পর ফজর পড়া যাবে?

সেহরির শেষ সময় পার হওয়ার সাথে সাথেই সুবহে সাদিক শুরু হয় এবং ফজরের ওয়াক্ত হয়ে যায়। সাধারণত সতর্কতার জন্য আজানের ৫-১০ মিনিট পর নামাজ শুরু করা হয়।

৩. ভুলে কিছু খেয়ে ফেললে কি রোজা ভেঙে যাবে?

না, যদি কেউ রোজা রাখা অবস্থায় সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃতভাবে বা ভুলে কিছু খেয়ে ফেলেন, তবে তার রোজা ভাঙবে না। মনে পড়ার সাথে সাথে খাবার বন্ধ করে দিতে হবে এবং রোজা চালিয়ে যেতে হবে।

শেষ কথা

পবিত্র মাহে রমজান আমাদের জন্য আত্মশুদ্ধি ও গুনাহ মাফের সুবর্ণ সুযোগ। ২০২৬ সালের এই রমজানের দিনগুলো যেন আমরা ইবাদত ও ত্যাগের মাধ্যমে অতিবাহিত করতে পারি, মহান আল্লাহর কাছে সেই প্রার্থনাই করি।

আপনার এলাকার সঠিক সময়সূচি জানতে স্থানীয় মসজিদের আজানের সময় অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ। আল্লাহ আমাদের রোজা কবুল করুন। আমিন।

Leave a Comment